বিজয়নগরে ২০ গ্রাম প্লাবিত।। আশ্রয়ন প্রকল্পের ১১ঘর পানিবন্দী

22 June, 2022 : 4:43 pm ৩৩

বিজয়নগর।।
তিতাস নদী ও কাজলা বিলের পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৯ ইউনিয়নই বন্যা কবলিত হয়ে পরছে। জানা গেছে,৯ ইউনিয়নের ২০ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
বন্যা কবলিত ইউপিগুলো হলো- চর-ইসলামপুর, পত্তন, ইছাপুরা, চম্পকনগর, বুধন্তি, চান্দুরা, সিঙ্গারবিল, পাহাড়পুর ও হরষপুর ইউনিয়ন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব গ্রামের ফলসি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তিতাস নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার দত্তখোলা, এক্তারপুর, সহদেবপুর, চর-ইসলামপুর, মনিপুর, পত্তন, গোয়ালখলা, লক্ষীমোড়া, চান্দুরা, কালিসিমা,সাপুটিয়া, নদ্দখলা,পারাঙ্গা,মাশাউরা,সহদেবপুর,খাটিংগা, চম্পকনগরের ভাটি এলাকাসহ উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬৮৭টি পরিবারের ৩ হাজার ৪৩৫ জন। এসব বানভাসী মানুষের অভিযোগ গত ১ সপ্তাহ ধরে তারা দুভোর্গের শিকার হলেও বুধবার বিকেল পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য-সহযোগীতা পায়নি। মনিপুর গ্রামের নায়েব মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানিতে পরিবার পরিজন, গরু-বাছুর নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। রান্না ঘর, টিউবওয়েল, বাথরুম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গরু রাখার কোনো জায়গা নেই। অন্য এলাকায় নিয়ে গরু রেখে এসেছি। এভাবে যদি পানি বাড়তে থাকে তাহলে বাড়ি ছাড়া হতে হবে।উপজেলার চান্দুরা ইউপির কালিসীমা গ্রামের জয়নাল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। পুকুরের মাছ সব ভেসে গেছে।কালীসীমা গ্রামের আমেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিদিনই আস্তে আস্তে পানি বাড়ছে। বাড়ির উঠানে কোমর পানি। বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছি না। বাথরুম, রান্নাঘর পানির নিচে। ঘরের ভেতরে কোনো রকম রান্না করে খেয়ে বেঁচে আছি। এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান কেউই কোনো খোঁজ নেয়নি।উপজেলার চর-ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান দানা মিয়া ভূইয়া বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি।উপজেলা কৃষি অফিসার সাব্বির আহমেদ বলেন, বন্যায় ১৩৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ৪০ হেক্টরের সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।এদিকে হরষপুর ইউনিয়নের ইকতার পুরে সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ১১টি ঘর পানিতে ডুবে গেছে।
বিজয়নগর উপজেলার ইউএনও এ.এইচ. ইফরান উদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বন্যা কবলিত লোকদের জন্য ২৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলার ২০ গ্রাম বন্যায় কবলিত হয়েছে। ৬৮৭টি পরিবারের ৩ হাজার ৪৩৫ জন মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

[gs-fb-comments]
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com