ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপ-নির্বাচন: সেই সাত্তারের প্রচারণায় আ.লীগ নেতারা

১৯ জানুয়ারি, ২০২৩ : ৬:২৯ অপরাহ্ণ ২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

বিএনপির থেকে পদত্যাগী আলোচিত প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া  সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে আ.লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন।বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১২টায় সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর হাজী মকসুদ আলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এ প্রচারণা শুরু করেন তিনি।পাকশিমুল ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজের ব্যানারে পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব, পাকশিমুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।সংসদ ও বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর এই প্রথম বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আশুগঞ্জ উপজেলায় আসেন আবদুস সাত্তার। আশুগঞ্জ থেকে নৌপথে সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে নিজের বংশের ও গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলা আ.লীগের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় কোন নির্দেশনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোতে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার জয়ের পথ পরিস্কার হয়েছে বলে  মনে করছেন ভোটাররা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন নেতার পর বুধবার সরে দাঁড়িয়েছেন আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা। মৃধা জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের দুইবারের সাবেক সাংসদ।
এর আগে, গত ১৪ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগের তিন নেতা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন ও শাহজাহান সাজু। এর ফলে, আব্দুস সাত্তারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়ে গেলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ। জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোতে অবস্থাদৃষ্টে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার জয়ের পথ আরও পরিস্কার হয়েছে।এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি বিতর্কিত করতে সরকার সুকৌশলে আব্দুস সাত্তারকে উপনির্বাচনে আনার ছক কষেছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি বিতর্কিত করতে আব্দুস সাত্তারকে নির্বাচনে আনা হয়েছে। সরকার সেটা সফলভাবে করেছে। তাকে চাপ দিয়ে এই নির্বাচনে আনা হয়েছে।’ সংসদ থেকে পদত্যাগের পর আব্দুস সাত্তার একই আসনের উপনির্বাচনে লড়তে চাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ১১ ডিসেম্বর আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া। তিনি এই আসনে ৫ বার এমপি ছিলেন।

[gs-fb-comments]